1. admin@hvoice24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

গরম যত লোডশেডিং তত-হবিগঞ্জ ভয়েস২৪

ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩
  • ১৬১ বার পঠিত

জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কোনো না কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র। সর্বশেষ গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে বন্ধ হয়ে গেল পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। আবার উৎপাদনে থাকা বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না পর্যাপ্ত কয়লা ও গ্যাসের অভাবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে অনেক। তাই গরম না কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা নেই। এদিকে দু-চার দিনের মধ্যে গরম কমার খবর দিতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চলমান তাপপ্রবাহ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে দেশের দু-এক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও তাতে তাপমাত্রা কমবে না। এর জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূলে অগ্রসর হতে পারে। তখন কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলে তাপ কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, এবার সাগরে সাইক্লোন মোখার কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে মৌসুমি বায়ু। যার কারণে তাপপ্রবাহের সময় দীর্ঘ হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সারা দেশে বেশির ভাগ সময় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি লোডশেডিং হয়েছে। আর লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সবচেয়ে বেশি পোহাতে হচ্ছে গ্রামের লোকজনকে। রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৩৫০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। সেটা রোববার মধ্যরাত থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আরেক দফা বেড়েছে লোডশেডিং।

কিছুদিন ধরে ঢাকা শহরে দিনে কমপক্ষে চার-পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার বনশ্রী এলাকার এইচ ব্লকের বাসিন্দা রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘সরকার যে বলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড উৎপাদন সক্ষমতা আছে। মাঝে মাঝে দেখানো হয় রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই গরমের মধ্যে সেই রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গেল কই।’

বন্ধ হয়ে গেছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র:
তিন বছর আগে উৎপাদনে আসার পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন দিয়ে আসছিল পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গড়ে ১ হাজার ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। কয়লার সংকটের কারণে গত ২৫ মে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট। রোববার মধ্যরাতে বন্ধ হয়ে যায় ৬৬০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিটও।

পিডিবি জানিয়েছে, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এখন কঠিন হয়ে গেছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আবারও উৎপাদনে আসতে কমপক্ষে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগতে পারে।

দ্রুত অবনতি হচ্ছে ঢাকার লোডশেডিং পরিস্থিতি
রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে আছে ডিপিডিসি ও ডেসকো। সংস্থা দুটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল লোডশেডিং পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় খারাপ হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দিন কোথাও না কোথায় লোডশেডিং করতে হয়েছে। রাতের বেলায় দোকান, শপিং মল ও অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ থাকার পরও কমছে না লোডশেডিং। এ জন্য মধ্যরাতেও করতে হচ্ছে লোডশেডিং।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমীর আলী বলেন, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে অনেক। দিনের মতো রাতেও চাহিদা প্রায় একই থাকছে। গতকাল প্রায় ৩২৪ মেগাওয়াটের মতো করতে হয়েছে তাঁদের এলাকায়।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব রাখার একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল সারা দেশে গড়ে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং হয়েছে। তার মধ্যে বেলা ৩টায় লোডশেডিং ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

পিজিসিবি এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেলা ৩টার সময় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ছিল ছিল ১১ হাজার মেগাওয়াট। লোডশেডিং করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৯ মেগাওয়াট।

@আজকের পএিকা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা