1. admin@hvoice24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্কুলে ব্যাপক সংঘর্ষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩
  • ১৪৩ বার পঠিত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় নলতা হাই স্কুল একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল। এ স্কুলের সুনাম ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলো ১৬ই জুলাই ২০২৩ রবিবার। স্কুল চলাকালীন সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর ১ ছাত্রীর জন্মদিন উদযাপন করে নবম শ্রেণীর পাঁচ সাত জন শিক্ষার্থী। শুধু তাই নয় তারা এই জন্মদিন নিয়ে টিকটক করার ঘটনা শিক্ষকরা জানতে পারেন। তৎক্ষণাৎ শিক্ষকরা স্কুলের দ্বিতল ভবনে পৌঁছে যান এবং তাদেরকে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে নিয়ে আসেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলের নিয়ম ভঙ্গ করে এধরনের কাজ করার ব্যাপারে সন্তরজনক উত্তর দিতে পারেনি। এ সময় অবকাশ খা নামের শ্রেণী শিক্ষক তাদের হাত দিয়ে প্রত্যেককে একটি দুটি করে চড়-থাপ্পড়ে দিয়ে অভিভাবকদের সাথে বাড়িতে পাঠান। বাড়িতে গিয়ে নবম শ্রেণীর এক ছাত্র অসুস্থ বোধ করেন এবং প্রতাপ চন্দ্র দাশ নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু বরণ করেন।

এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আরও ৭টি মটর সাইকেল ভাঙচুর করে। শিক্ষকদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় স্কুলের প্রধানসহ দুই শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নিহত প্রতাপ চন্দ্র উপজেলার নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ছাত্র বাড়ি সুস্থ শরীরে তারপর সেখানে গিয়ে অন্য কোন কারণে মৃত্যুবরণ করতে পারে । প্রতাপ চন্দ্রের বন্ধুরা বলছে বাড়িতে গিয়ে পানি খাওয়ার সময় সে বমি করে এবং বলে যে মাথায়ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে বলে কাতরাতে তাকে । তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায় বন্ধুরা সেখানেই সে মারা যায়। এলাকায় অনেকে বলছে সে বাথরুমে গিয়ে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের ছাদে কেক কাটে প্রতাপ চন্দ্র দাশসহ তার কয়েকজন বন্ধু। এসময় তারা টিকটক ভিডিও করছিল। বিষয়টি নজরে পড়ে সহকারী শিক্ষক অবকাশ খার। তিনি এগিয়ে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিষেধ করলে শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এসময় তিনি তাদের শাসন সুলভ আচরণস্বরূপ দুটো একটি চড় মারেন প্রধান শিক্ষকের পক্ষে নিয়ে আসেন এর পরপরই বাড়ি চলে যায় প্রতাপসহ তার বন্ধুরা। বাড়িতে গিয়েই প্রতাপ এর মৃত্যু হয়।

প্রতাপের চাচি তাপসী দাশ জানান, প্রতাপ স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে টয়লেটে যায়। সেখান থেকে সে বমি করতে করতে বের হয়। সে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বলে। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, প্রতাপের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীসহ এলাকাবাসী বাড়ি থেকে মরদেহ নিয়ে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করেন। তারা স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরসহ বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন। ৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি একটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কালিগঞ্জ ইউএনও রহিমা সুলতানা বুশরা ঘটনা শোনা মাত্রই হাইস্কুলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ জানার জন্য এলাকাবাসীর শিক্ষক এবং সকল মানুষের সাথে কথা বলেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান , একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা