1. admin@hvoice24.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ৩০ মোটরসাইকেল আটক বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে পাবেল হত্যা মামলার আরও ১৬ আসামি গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে ৫ম বারের মতো পরিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ফ্রি বাস সার্ভিস দিলো এমএফজেএফ জনগণের ভোটের সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে ‘জিয়া’ নামে বই কিনে যুবদল নেতা রুবেল চৌধুরী’র মুগ্ধতা প্রকাশ  ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ আজ,গর্জে উঠেছিল ছাত্রসমাজ বানিয়াচং উপজেলা ইউনিয়ন ও দর্শনীয় স্থান-হবিগঞ্জ ভয়েস২৪ “স্বামীর দেশ ভারত থেকে মাদক আসছে” মন্তব্য করায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে হযরত পন্হিশাহ (রঃ) কমপ্লেক্সের পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের কলোনীতে জোড়পূর্বক ৫’শ পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ

কাইয়ুম চৌধুরী
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ১১৪ বার পঠিত

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের কুমিরায় রেলওয়ের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে লিজ না নিয়ে এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যেুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রেলওয়ে কলোনীর জায়গা থেকে বসবাসরত বাড়ীঘর ভেঙ্গে জোড় পূর্বক ৫’শ পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।

কুমিরা রেল কলোনীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবং সেখানে অবস্হানরত রেলওয়ের অবসর প্রাপ্ত ২/১টি পরিবার থেকে জানা যায়,৪নং কুমিরা ইউনিয়নস্হ বাংলাদেশ রেলওয়ের কুমিরা ষ্টেশনের উত্তর পাশে রেলওয়ে কলোনীতে প্রায় ৫০ একর (৫ হাজার শতক) বসতি জায়গা গ্রাসের উদ্দেশ্যে লিজের জন্য একটি প্রভাবশালী মহল আবেদন করে।কিন্তু মহলটি অনুমতি না পাওয়ার পরও সেখানে বসবাসরত প্রায় ৫’শত পরিবারকে গতকাল বৃহশপতিবার কুমিরা এলাকার প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যু জনৈক মহসিন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জোড় পূর্বক তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেয়।তবে সেখানে এখনো সাহস করে অবস্হানরত রেলওয়ের অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী রমনী কুমার নাথ(৬২) কান্না করে বলেন,আমাদের কে জোড় পূর্বক এখান থেকে তুলে দিতে চায়।এখানে বসবাস ছাড়া আমার আর কোন জায়গা নেই।তার মেয়ে স্বপ্না রানী(৪২) জানান, আমার বাবা ৪০ বছর পর রেল থেকে অবসর পায় এবং আমার দাদা চিন্তা হরন নাথ রেলওয়ে চাকরি করে অবসরে যান।আমার দাদার আমল থেকেই এখানে আমরা বসবাস করে আসছি।দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই এই জায়গায় আমাদের বসবাস এবং আমরা নদী ভাঙ্গা মানুষ।তারা অনেক জোড় করে আমাদেরকে তুলে দিতে চায়।তারা আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিতেছে,আমরা এখান থেকে চলে যেতে।কিন্তু আমরা এখান থেকে যাব কোথায়।এই জায়গা ছাড়া আমাদের আর কোন ঠাঁই নাই।আরেক পরিবারের উচ্ছেদ হওয়া মর্জিনা ও হালিমা কান্না জড়িত কন্ঠে বলে,রাঘব বোয়ালরা আমাদেরকে জোড় পূর্বক উচ্ছেদ করে দেয়। এখন আমরা পাহাড়ের পাশে অনেক কষ্টে জীবণ যাপন করে রাত দিন কাটাচ্ছি।যেন আমাদের দেখার কেউ নেই।আশে পাশের স্হানীয়দের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ৭৫ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ আক্ষেপ করে আমাদের সময় প্রতিনিধিকে জানান, ওখান থেকে যাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়,তারা জনৈক মহসিনের দাপটের কারণে, কান্না জড়িত কন্ঠে আকাশ বাতাস ভারী করে রেলওয়ের জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।সে (মহসিন) তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দিন রাত হুমকি ধমকির মাধ্যমে ওদেরকে ঐ জায়গা ছাড়তে বাধ্য করে।কার ইশারায়,কিসের ইঙ্গিতে বসবাসকৃত এত গুলোর লোকের সর্বনাশ করলো তারা জানেনা।উচ্ছেদকৃত এত গুলো পরিবারের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার কি হবে ?

এদিকে তাদেরকে উচ্ছেদ করার পর সেখানে ভূমিদস্যু মহসিন নতুন রঙিন টিন দিয়ে একটি অফিস করে। সেখানে ” এগ্রিকালচার এগ্রো ” নাম লিখে কয়েকটি সাইনবোর্ড লাগায়।তাছাড়া কুমিরা ষ্টেশন মাষ্টার সাইফুদ্দিন বশরকে উচ্ছেদকৃত জায়গাটি উচ্ছেদকারীরা লিজে নিয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদের সময় কে বলেন,তারা লিজের জন্য আবেদন করে।কিন্তু লিজের অনুমতি পায়নি এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয ডিআরএম স্যার ও ষ্টেট অফিসার স্যার এসে নতুন অফিসটি ভেঙ্গে দিয়ে সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূ- সম্পত্তি প্রধান কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী আমাদের সময় কে বলেন, কুমিরা রেল কলোনী জায়গা কাউকে লিজ দেয়া হয়নি, লিজ দিলে রেল কর্তৃপক্ষই উচ্ছেদ করতো,আমাদের কর্মকর্তারা দখলদারদের ঘর, সাইনবোড ভেঙ্গে দিয়েছে,প্রযোজনে আইনী ব্যাবস্হা হবে।

এদিকে ৮নং সোনাইছড়ি ইউরিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমদকে জায়গা বেদখলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাদের সময় কে বলেন,আমি শুনেছি ঐখানে কেউ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে নিরীহ পরিবারদের কে উচ্ছেদ করে।তবে যারা ঐ কাজটি করেছে,তারা যদি লিজ না নিয়ে করে তাহলে আমার প্রশ্ন আছে এবং তারা এটি একটি অমানবিক কাজ করেছে।

অপরদিকে ৭নং কুমিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ বলে আমি মনে করি। কারণ উচ্ছেদ হওয়া লোক গুলো বেশির ভাগ নদী ভাঙ্গা,কেউ ভূমিহীন,কেউ দিন মজুর।তাই এদেরকে উচ্ছেদ করার আগে তাদের জন্য বাসস্হানের ব্যবস্হা করা উচিত ছিল।এখন এই উচ্ছেদ হওয়া বিশাল পরিবারের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার কি হবে !

দখলদার মোঃ মোহসীনের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা