1. admin@hvoice24.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে বিশেষ অভিযানে ৩০ মোটরসাইকেল আটক বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে পাবেল হত্যা মামলার আরও ১৬ আসামি গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে ৫ম বারের মতো পরিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ফ্রি বাস সার্ভিস দিলো এমএফজেএফ জনগণের ভোটের সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে ‘জিয়া’ নামে বই কিনে যুবদল নেতা রুবেল চৌধুরী’র মুগ্ধতা প্রকাশ  ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ আজ,গর্জে উঠেছিল ছাত্রসমাজ বানিয়াচং উপজেলা ইউনিয়ন ও দর্শনীয় স্থান-হবিগঞ্জ ভয়েস২৪ “স্বামীর দেশ ভারত থেকে মাদক আসছে” মন্তব্য করায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে হযরত পন্হিশাহ (রঃ) কমপ্লেক্সের পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন

হালের ‘কিংস পার্টি’ মাঠে বেহাল, অনেকের মুখও চেনেন না ভোটাররা

হবিগঞ্জ ভয়েস ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৮৬ বার পঠিত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক হাঁকডাক শুরু হয়েছে নতুন নিবন্ধিত ‘তৃণমূল বিএনপি’ ও ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট (বিএনএম)’ নিয়ে। মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি না থাকলেও তারা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে।।

বলা হচ্ছে, সরকারি আনুকূল্য পাওয়া ‘কিংস পার্টি’ খ্যাত এসব দলের মূল লক্ষ্য বিরোধী দলগুলোতে ভাঙন ধরানো। একই সঙ্গে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো না এলে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা।

এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘দলছুট’ নেতারা তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএমে ভেড়ায় সংশ্লিষ্ট আসন নিয়ে নানা সমীকরণ সামনে আনা হচ্ছে। বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ছোট দলগুলোর নেতারা। বিএনপির না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন বুনছেন। তবে ভোটের মাঠে কিংস পার্টির প্রার্থীদের অবস্থান খুবই দুর্বল, নেই জনসমর্থনও।

অনেকের মুখও চেনেন না ভোটাররা। আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও তাদের কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। সব মিলিয়ে অবস্থা লেজেগোবরে। অবশ্য তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএম ছাড়াও আরও কয়েকটি ‘কিংস পার্টি’ প্রার্থী দিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় ওই প্রার্থীদেরও একই অবস্থা।

সিলেট-৬ আসনে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে ঠেকাতে একাট্টা আওয়ামী লীগের নেতারা, ফরম কিনেছেন ১০ জন। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চান অবসর ভেঙে এলডিপি হয়ে এখন তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান বনে যাওয়া বিএনপির সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী। পরিচিত মুখ হলেও তিনি দীর্ঘদিন এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

নাহিদকে ঠেকাতে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থন পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শমসের মবিনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বিএনপির ভোটাররা। কারণ এখানে দলটির বড় ভোটব্যাংক রয়েছে, যারা শমসের মবিনকে দলের ‘বেইমান’ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকেন।

গত ২১ নভেম্বর তৃণমূল বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার রূপসীর খন্দকারপাড়ার বাসিন্দা তৈমূর আলম দলীয় মনোনয়নপত্র নেওয়ার দু’দিন আগে ১৯ নভেম্বর রাতে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ বিষয় উল্লেখ করে রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, তৈমূর আলম আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েই নির্বাচনে নেমেছেন। তারাব পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মোল্লা জানান, তৈমূর আলমের বাড়ি তারাব পৌর এলাকায়। তিনি পৈতৃক এলাকায় রাজনীতি করেননি; করেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরে। বিভিন্ন সময়ে তিনি জেলা ও মহানগরের নেতা ছিলেন।

অবশ্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নাকচ করে তৈমূর আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
বিএনএমের মহাসচিব অ্যাডভোকেট ড. মো. শাহজাহানের জন্ম চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নলগোড়া গ্রামে। ১৯৯১ সালে চাঁদপুর-৪ থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন।

পরে আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী হন। মো. শাহজাহান দীর্ঘদিন এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তাঁর নতুন দলে যোগদান নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে পেছনের সারির এ নেতা কখনও নিজের বলয় তৈরি করতে পারেননি। নেই নিজস্ব কোনো সমর্থক গোষ্ঠী। ফলে ভোটের মাঠে কতটা সুবিধা করতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা।

২০০৮ সাল থেকে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসন ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এখানে বিএনএম থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির সাবেক আহ্বায়ক ও বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-বেতাগী) আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান খোকনের। তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আব্দুর রহমান বরগুনা-২ থেকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুর রহমান ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বরগুনা-১ থেকে নির্বাচিত হয়ে মাত্র ১২ দিন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ওই বছরই সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হলেও নৌকার ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর কাছে হেরে যান। আব্দুর রহমান বর্তমানে রাজধানীর প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান ও ডিনের দায়িত্বে আছেন। ২০০৮ সালের পর বেতাগীর রাজনীতিতে তাঁর তেমন সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি। যদিও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রয়াত আবুল হোসেন শিকদারের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুর রহমান।

বিএনএমের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামছুল আবেদীন। তিনি সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। মরমি কবি হাছন রাজার প্রপৌত্র শামছুল আবেদীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। সুনামগঞ্জ-৩ থেকে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে এমপি হয়েছিলেন। ২০০১ সালে সুনামগঞ্জ-৪ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

এর পর ২০০৮ সালে মনোনয়ন না পেলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এমনকি এলাকার সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায়নি। তবে বিএনএমে যোগ দিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে শামছুল আবেদীন নিজে সুনামগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাঁর এ প্রচার ভালোভাবে নেননি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয়ভাবে আসন সমঝোতা হলেও বাইরের কাউকে মানবেন না। বিশ্বম্ভরপুরের বাসিন্দা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোশারফ হোসেন ইমন বলেন, শামছুল আবেদীন ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এলাকাছাড়া। তাঁর অনুসারী কিংবা ব্যক্তিগত কোনো কর্মী আছে বলেও আমরা জানি না।

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি আবদুল ওহাব বিএনএমে যোগ দেওয়ার পরই এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। এক সময়ের পরীক্ষিত শিষ্যরাই তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। তবে আবদুল ওহাবের নতুন দলে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। যদিও ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে চলছে নানা হিসাবনিকাশ। ফটিকছড়িতে মহাজোটের শরিক তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এবারও মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে তাঁর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন নতুন দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ও বিএনএফ। বিএসপির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ ফটিকছড়িতে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আছেন বিএনএফের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদও। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের আনুকূল্য পেতে ব্যস্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা